০৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

টানাবর্ষণে বরগুনায় পানির নিচে কৃষকের স্বপ্ন

  • আপডেট সময়: ০৫:১৬:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • 4

ছবি: কালের কণ্ঠ


উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে অবিরাম বর্ষণে মাঠের ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে, ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান ও শাকসবজি চাষ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে আমন ধান, শাক-সবজি, মুখডাল, বাদাম, মরিচসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অনেক ক্ষেতেই জমিতে পানি জমে থাকায় গাছ পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক মাঠে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং এসব ফসলের মাঠ থেকে পানি নিস্কাশনের ব্যাবস্থা নেই। বেতাগী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক স্বপন মোল্লা বলেন, ‘এভাবে আরও কয়েকদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। বিশেষ করে মুখডাল ও বাদাম পঁচে যাবে।’

বেতাগী সদর ইউনিয়নের বাসন্ডা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বাবুল বিশ্বাস বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে জমিতে মুখডাল,বাদাম ও মরিচ । এই টানা বৃষ্টিতে সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করবো বুঝতে পারছি না।’ একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করেছেন অন্যান্য কৃষকরাও।

কৃষিবিদ লিটন কুমার ঢালী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়ার এমন অস্বাভাবিক আচরণ বেড়েছে, যা কৃষির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।  ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতি মোকাবিলায় টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।’ কৃষকরা সরকারের কাছে জরুরি সহায়তা, প্রণোদনা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অনিমেষ বালা বলেন,‘চলতি মৌসুমে বেতাগী উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান শাকসবজি, টানা বর্ষণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান হিসাব করা হচ্ছে।

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

টানাবর্ষণে বরগুনায় পানির নিচে কৃষকের স্বপ্ন

আপডেট সময়: ০৫:১৬:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

ছবি: কালের কণ্ঠ


উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে অবিরাম বর্ষণে মাঠের ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে, ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান ও শাকসবজি চাষ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে আমন ধান, শাক-সবজি, মুখডাল, বাদাম, মরিচসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অনেক ক্ষেতেই জমিতে পানি জমে থাকায় গাছ পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক মাঠে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং এসব ফসলের মাঠ থেকে পানি নিস্কাশনের ব্যাবস্থা নেই। বেতাগী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক স্বপন মোল্লা বলেন, ‘এভাবে আরও কয়েকদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। বিশেষ করে মুখডাল ও বাদাম পঁচে যাবে।’

বেতাগী সদর ইউনিয়নের বাসন্ডা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বাবুল বিশ্বাস বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে জমিতে মুখডাল,বাদাম ও মরিচ । এই টানা বৃষ্টিতে সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করবো বুঝতে পারছি না।’ একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করেছেন অন্যান্য কৃষকরাও।

কৃষিবিদ লিটন কুমার ঢালী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়ার এমন অস্বাভাবিক আচরণ বেড়েছে, যা কৃষির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।  ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতি মোকাবিলায় টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।’ কৃষকরা সরকারের কাছে জরুরি সহায়তা, প্রণোদনা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অনিমেষ বালা বলেন,‘চলতি মৌসুমে বেতাগী উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান শাকসবজি, টানা বর্ষণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান হিসাব করা হচ্ছে।