১০:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

হাসপাতালে হাসপাতালে টেন্ডারবাজদের হানা

  • আপডেট সময়: ০৫:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • 5

হাসপাতালে গড়ে উঠছে টেন্ডারবাজ সিন্ডিকেট। ছবি: এআই


রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে টেন্ডারবাজ সিন্ডিকেট। চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ থেকে শুরু করে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি কেনাকাটা, হাসপাতালের নির্মাণ ও সংস্কার কাজ সবখানেই প্রভাব বিস্তার করছে টেন্ডারবাজরা। অভিযোগ রয়েছে, কখনো রাজনৈতিক পরিচয় এবং কখনো সন্ত্রাসী প্রভাব খাটিয়ে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছে তারা।

টেন্ডার ভাগিয়ে নিতে হাসপাতালে দায়িত্বরতদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, কখনো হত্যার হুমকি আবার কখনো মব তৈরি করে হাসপাতালের দায়িত্বরতদের জিম্মি করে টেন্ডার ভাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে চক্রটি। এতে সরকারের যেমন বিপুল অর্থ অপচয় হচ্ছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবার মান। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ঘটনা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার শুরু থেকেই এসব চক্রকে সামাল দিতে না পারলে দিন দিন তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

“ক্ষমতায় থাকা যেকোনো সরকারের সময় সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তৈরি হয়, যারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি করে। তাই মূল হোতা ও পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সবচেয়ে জরুরি।‎”

ড. তৌহিদুল হক, অপরাধ বিশেষজ্ঞ

তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পাওয়া সব ঘটনার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব অপরাধের সঙ্গে দলীয় কেউ যুক্ত থাকলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।  ‎

‎সাম্প্রতিক আলোচিত যত ঘটনা

‎গত ২০ এপ্রিল বিকেল ৪টায় মহাখালীর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির পুরনো ক্যাম্পাসের পেছনে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আহমদ হোসেনকে টেন্ডারসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মুখোশধারী কয়েকজন সন্ত্রাসী এসে ছুরিকাঘাত করে আহত করে। এ সময় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনার পর ডা. আহমদ আতঙ্কে আর হাসপাতালে যোগ দেননি। তার জায়গায় অন্য আরেকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের উপ-পরিচালককে কুপিয়ে জখম। ছবি: সংগৃহীত

‎‎এছাড়াও সম্প্রতি মহাখালী এলাকায় নিজ বাসার সামনে কুপিয়ে আহত করা হয় একই হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল্লাহ আল মেহেদিকে। মূলত টেন্ডারসংক্রান্ত কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

গত শনিবার (১৬ মে) বেলা পৌনে ১২টায় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. রশিদুল আলমের কক্ষে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে হুমকির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

‎হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন যুবক হঠাৎ সহকারী পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে। তারা আউটসোর্সিং বা চুক্তিভিত্তিক জনবল নিয়োগে নিজেদের পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে চাপ দেয়। দাবি না মানলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।

‎তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। আমরা অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত দুজনকে গ্রেফতার করেছি। বাকিদের গ্রেফতারে কাজ চলছে।

‎এর আগে গত মাসে বিনা পারিশ্রমিকে দুই হাজার কিডনি প্রতিস্থাপনকারী অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় যুবদল নেতা মঈন নামে এক ব্যক্তি পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। এ ঘটনাটি সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তার হাসপাতালে চাল-সবজি দেওয়ার টেন্ডার না পেয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। বিষয়টি জানার পর কেন্দ্রীয় যুবদল নেতাকর্মীরা ডা. কামরুলের হাসপাতালে ছুটে আসেন।

‎এ ঘটনায় হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় মূলহোতা মঈন উদ্দিনকে নড়াইলের কালিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার সহযোগী আরও ছয় সদস্যকে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

গ্রেফতার হয়েছেন কয়েকজন। ছবি: সংগৃহীত

‎এসবের পাশাপাশি খোদ স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. জাহিদ রায়হানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সম্প্রতি একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর মহাখালী এলাকায় হাসপাতালকেন্দ্রিক সন্ত্রাসী তৎপরতা ও চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার পর তার কার্যালয়ে এ হুমকিপত্র পৌঁছায়। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

‎‘দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক ঢাকা মেইলকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন সরকার গঠনের পর পুলিশ কিছুটা দ্বিধায় কাজ করছে, ফলে অপরাধীরা সুযোগ পাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে। পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটগুলা আরও সক্রিয় হয়ে কাজ করা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কঠোর হলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমে আসবে।


অপরাধীদের হাতে ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’, নতুন শঙ্কা


এই অপরাধ বিশেষজ্ঞ বলেন, অতীতে দেখা গেছে, অভিযানে মাঠপর্যায়ের চাঁদাবাজরা ধরা পড়লেও মূল পৃষ্ঠপোষকরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। ফলে প্রকৃত অপরাধ অনিয়ন্ত্রিত থাকে। ক্ষমতায় থাকা যেকোনো সরকারের সময় সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তৈরি হয়, যারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি করে। তাই মূল হোতা ও পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সবচেয়ে জরুরি।‎

ছাড় দেয়নি মানবিক চিকিৎসক কামরুল ইসলামকেও। ছবি: সংগৃহীত

সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

‎র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী ঢাকা মেইলকে বলেন, পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫টি ব্যাটালিয়ন একযোগে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় পাড়া মহল্লাভেদে সন্ত্রাসীদের তালিকা করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মূল হোতা যারা রয়েছে তাদের অবস্থান শনাক্তের কাজ চলছে। যেকোনো সময় তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।

এদিকে গত ‎শনিবার (১৬ মে) রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে সন্ত্রাসী হামলায় আহত ডা. নাসির ইসলামকে দেখতে ঢামেকে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, হাসপাতালের টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় প্রভাব খাটানো বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোতে টেন্ডার নিয়ে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। টেন্ডার দুর্নীতির বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স অবস্থায় রয়েছে। মেডিকেল বিষয়ে কোনো সন্ত্রাসীকে রেহাই দেওয়া হবে না। হুমকিতে চিকিৎসাকরা শঙ্কিত নন।-একে সালমান

 

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

হাসপাতালে হাসপাতালে টেন্ডারবাজদের হানা

আপডেট সময়: ০৫:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

হাসপাতালে গড়ে উঠছে টেন্ডারবাজ সিন্ডিকেট। ছবি: এআই


রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে টেন্ডারবাজ সিন্ডিকেট। চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ থেকে শুরু করে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি কেনাকাটা, হাসপাতালের নির্মাণ ও সংস্কার কাজ সবখানেই প্রভাব বিস্তার করছে টেন্ডারবাজরা। অভিযোগ রয়েছে, কখনো রাজনৈতিক পরিচয় এবং কখনো সন্ত্রাসী প্রভাব খাটিয়ে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছে তারা।

টেন্ডার ভাগিয়ে নিতে হাসপাতালে দায়িত্বরতদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, কখনো হত্যার হুমকি আবার কখনো মব তৈরি করে হাসপাতালের দায়িত্বরতদের জিম্মি করে টেন্ডার ভাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে চক্রটি। এতে সরকারের যেমন বিপুল অর্থ অপচয় হচ্ছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবার মান। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ঘটনা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার শুরু থেকেই এসব চক্রকে সামাল দিতে না পারলে দিন দিন তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

“ক্ষমতায় থাকা যেকোনো সরকারের সময় সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তৈরি হয়, যারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি করে। তাই মূল হোতা ও পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সবচেয়ে জরুরি।‎”

ড. তৌহিদুল হক, অপরাধ বিশেষজ্ঞ

তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পাওয়া সব ঘটনার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব অপরাধের সঙ্গে দলীয় কেউ যুক্ত থাকলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।  ‎

‎সাম্প্রতিক আলোচিত যত ঘটনা

‎গত ২০ এপ্রিল বিকেল ৪টায় মহাখালীর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির পুরনো ক্যাম্পাসের পেছনে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আহমদ হোসেনকে টেন্ডারসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মুখোশধারী কয়েকজন সন্ত্রাসী এসে ছুরিকাঘাত করে আহত করে। এ সময় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনার পর ডা. আহমদ আতঙ্কে আর হাসপাতালে যোগ দেননি। তার জায়গায় অন্য আরেকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের উপ-পরিচালককে কুপিয়ে জখম। ছবি: সংগৃহীত

‎‎এছাড়াও সম্প্রতি মহাখালী এলাকায় নিজ বাসার সামনে কুপিয়ে আহত করা হয় একই হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল্লাহ আল মেহেদিকে। মূলত টেন্ডারসংক্রান্ত কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

গত শনিবার (১৬ মে) বেলা পৌনে ১২টায় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. রশিদুল আলমের কক্ষে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে হুমকির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

‎হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন যুবক হঠাৎ সহকারী পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে। তারা আউটসোর্সিং বা চুক্তিভিত্তিক জনবল নিয়োগে নিজেদের পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে চাপ দেয়। দাবি না মানলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।

‎তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। আমরা অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত দুজনকে গ্রেফতার করেছি। বাকিদের গ্রেফতারে কাজ চলছে।

‎এর আগে গত মাসে বিনা পারিশ্রমিকে দুই হাজার কিডনি প্রতিস্থাপনকারী অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় যুবদল নেতা মঈন নামে এক ব্যক্তি পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। এ ঘটনাটি সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তার হাসপাতালে চাল-সবজি দেওয়ার টেন্ডার না পেয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। বিষয়টি জানার পর কেন্দ্রীয় যুবদল নেতাকর্মীরা ডা. কামরুলের হাসপাতালে ছুটে আসেন।

‎এ ঘটনায় হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় মূলহোতা মঈন উদ্দিনকে নড়াইলের কালিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার সহযোগী আরও ছয় সদস্যকে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

গ্রেফতার হয়েছেন কয়েকজন। ছবি: সংগৃহীত

‎এসবের পাশাপাশি খোদ স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. জাহিদ রায়হানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সম্প্রতি একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর মহাখালী এলাকায় হাসপাতালকেন্দ্রিক সন্ত্রাসী তৎপরতা ও চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার পর তার কার্যালয়ে এ হুমকিপত্র পৌঁছায়। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

‎‘দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক ঢাকা মেইলকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন সরকার গঠনের পর পুলিশ কিছুটা দ্বিধায় কাজ করছে, ফলে অপরাধীরা সুযোগ পাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে। পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটগুলা আরও সক্রিয় হয়ে কাজ করা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কঠোর হলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমে আসবে।


অপরাধীদের হাতে ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’, নতুন শঙ্কা


এই অপরাধ বিশেষজ্ঞ বলেন, অতীতে দেখা গেছে, অভিযানে মাঠপর্যায়ের চাঁদাবাজরা ধরা পড়লেও মূল পৃষ্ঠপোষকরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। ফলে প্রকৃত অপরাধ অনিয়ন্ত্রিত থাকে। ক্ষমতায় থাকা যেকোনো সরকারের সময় সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তৈরি হয়, যারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি করে। তাই মূল হোতা ও পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সবচেয়ে জরুরি।‎

ছাড় দেয়নি মানবিক চিকিৎসক কামরুল ইসলামকেও। ছবি: সংগৃহীত

সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

‎র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী ঢাকা মেইলকে বলেন, পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫টি ব্যাটালিয়ন একযোগে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় পাড়া মহল্লাভেদে সন্ত্রাসীদের তালিকা করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মূল হোতা যারা রয়েছে তাদের অবস্থান শনাক্তের কাজ চলছে। যেকোনো সময় তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।

এদিকে গত ‎শনিবার (১৬ মে) রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে সন্ত্রাসী হামলায় আহত ডা. নাসির ইসলামকে দেখতে ঢামেকে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, হাসপাতালের টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় প্রভাব খাটানো বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোতে টেন্ডার নিয়ে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। টেন্ডার দুর্নীতির বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স অবস্থায় রয়েছে। মেডিকেল বিষয়ে কোনো সন্ত্রাসীকে রেহাই দেওয়া হবে না। হুমকিতে চিকিৎসাকরা শঙ্কিত নন।-একে সালমান