০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

চিপসের লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, অতঃপর…

  • আপডেট সময়: ০৩:০০:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
  • 2

সংগৃহীত ছবি


রংপুর মহানগরীর মাহিগঞ্জ থানা এলাকায় চিপস কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বদিউজ্জামান (৫৫) নামে এক শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্স হল রুমে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার জানান, গত সোমবার রাতে নগরীর মাহিগঞ্জ থানার কলাবাড়ি এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত বদিউজ্জামান পেশায় একজন শ্রমিক এবং সে স্থানীয় একটি শিশুর সরলতার সুযোগ নেয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, সোমবার রাতে শিশুটিকে একা পেয়ে একটি চিপসের প্যাকেট কিনে দেয় অভিযুক্ত বদিউজ্জামান।

এরপর তাকে ফুসলিয়ে পাশের একটি নির্জন পাটখেতে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টা চালায় সে। এসময় শিশুটির চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে লম্পট বদিউজ্জামান অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী শিশুটির অভিভাবকরা তীব্র ক্ষোভ ও বিচার দাবি করে মাহিগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর পরই নড়েচড়ে বসে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে দ্রুত তৎপরতা শুরু হয়। তবে পুলিশের এই অভিযানের খবর টের পেয়ে চতুর বদিউজ্জামান এলাকা ছেড়ে অন্য এক প্রত্যন্ত এলাকায় পালিয়ে আত্মগোপন করে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই আমাদের টিম মাঠে নামে। আসামি অত্যন্ত চালাক প্রকৃতির হওয়ায় সে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছিল।

তবে আমাদের পুলিশ সদস্যরা হাল ছাড়েনি। সারা রাত ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার পর অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।’

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার বদিউজ্জামান মূলত ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করে এবং স্থায়ী বাসিন্দা হলেও সে মাঝে মাঝে রংপুরে আসে। স্থানীয়দের মতে, সে অত্যন্ত লম্পট প্রকৃতির এবং ইতোমধ্যেই সে একাধিক বিয়ে করেছে। এলাকায় সুযোগ পেলেই সে নারীদের উত্যক্ত করতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামিকে মঙ্গলবার বিকেলেই রংপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আমরা এই জঘন্য অপরাধের শিকার শিশুটির পরিবারকে সর্বোচ্চ আইনি সহায়তা দেব। আদালতের মাধ্যমে যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই লম্পটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়, সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ ও জোরালো তদন্ত রিপোর্ট (চার্জশিট) বিচারকের সামনে তুলে ধরা হবে। শিশুদের সুরক্ষায় পুলিশ কোনো ধরনের আপস করবে না।

এ ঘটনায় মাহিগঞ্জ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের পাশাপাশি আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা এই অপরাধীর ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

চিপসের লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, অতঃপর…

আপডেট সময়: ০৩:০০:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

সংগৃহীত ছবি


রংপুর মহানগরীর মাহিগঞ্জ থানা এলাকায় চিপস কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বদিউজ্জামান (৫৫) নামে এক শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্স হল রুমে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার জানান, গত সোমবার রাতে নগরীর মাহিগঞ্জ থানার কলাবাড়ি এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত বদিউজ্জামান পেশায় একজন শ্রমিক এবং সে স্থানীয় একটি শিশুর সরলতার সুযোগ নেয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, সোমবার রাতে শিশুটিকে একা পেয়ে একটি চিপসের প্যাকেট কিনে দেয় অভিযুক্ত বদিউজ্জামান।

এরপর তাকে ফুসলিয়ে পাশের একটি নির্জন পাটখেতে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টা চালায় সে। এসময় শিশুটির চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে লম্পট বদিউজ্জামান অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী শিশুটির অভিভাবকরা তীব্র ক্ষোভ ও বিচার দাবি করে মাহিগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর পরই নড়েচড়ে বসে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে দ্রুত তৎপরতা শুরু হয়। তবে পুলিশের এই অভিযানের খবর টের পেয়ে চতুর বদিউজ্জামান এলাকা ছেড়ে অন্য এক প্রত্যন্ত এলাকায় পালিয়ে আত্মগোপন করে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই আমাদের টিম মাঠে নামে। আসামি অত্যন্ত চালাক প্রকৃতির হওয়ায় সে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছিল।

তবে আমাদের পুলিশ সদস্যরা হাল ছাড়েনি। সারা রাত ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার পর অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।’

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার বদিউজ্জামান মূলত ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করে এবং স্থায়ী বাসিন্দা হলেও সে মাঝে মাঝে রংপুরে আসে। স্থানীয়দের মতে, সে অত্যন্ত লম্পট প্রকৃতির এবং ইতোমধ্যেই সে একাধিক বিয়ে করেছে। এলাকায় সুযোগ পেলেই সে নারীদের উত্যক্ত করতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামিকে মঙ্গলবার বিকেলেই রংপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আমরা এই জঘন্য অপরাধের শিকার শিশুটির পরিবারকে সর্বোচ্চ আইনি সহায়তা দেব। আদালতের মাধ্যমে যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই লম্পটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়, সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ ও জোরালো তদন্ত রিপোর্ট (চার্জশিট) বিচারকের সামনে তুলে ধরা হবে। শিশুদের সুরক্ষায় পুলিশ কোনো ধরনের আপস করবে না।

এ ঘটনায় মাহিগঞ্জ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের পাশাপাশি আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা এই অপরাধীর ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।