
কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করার মার্কিন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রকে তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘জবরদস্তি’ ও ‘হুমকি’ দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে মস্কো বলেছে, কিউবার ওপর ওয়াশিংটনের এই চাপ প্রয়োগের নীতি ‘সহিংসতার সমতুল্য’। খবর বিবিসি
১৯৯৬ সালে ফ্লোরিডা প্রণালীতে দুটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করার ঘটনার জেরে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত রাউল কাস্ত্রোসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগ গঠন করেন। ওই ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছিলেন, যা ওয়াশিংটন ও হাভানার মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বৈরিতাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করে আসছে।
সম্প্রতি দেশটির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা এবং জ্বালানি তেলের চালানের ওপর কার্যকর অবরোধ আরোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন। এর ফলে কিউবায় তীব্র বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে।
রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, কোনো অবস্থাতেই সাবেক বা বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানদের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত নয়, যা কার্যত সহিংসতার শামিল।’
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ‘কথায় কথায় শক্তিপ্রয়োগের হুমকি দেওয়া’ বন্ধ করা। বেইজিং কিউবার পাশে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেকোনো অজুহাতে কিউবার ওপর বাহ্যিক শক্তির চাপ সৃষ্টির তীব্র বিরোধিতা করে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নিষেধাজ্ঞা ও বিচার বিভাগকে জবরদস্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করা।’
যে দুটি বিমান ভূপাতিত করার অভিযোগে রাউল কাস্ত্রোকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো কিউবান-আমেরিকান ভিন্নমতাবলম্বী গোষ্ঠী ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল। নিহত চারজনের মধ্যে তিনজনই ছিলেন মার্কিন নাগরিক।
ঘটনার সময় রাউল কাস্ত্রো কিউবার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘আইনি ভিত্তিহীন এক রাজনৈতিক চাল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এর আগে গত জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে এক নাটকীয় অভিযানে কারাকাস থেকে বন্দি করে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। বর্তমানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস নিউইয়র্কের আদালতে মাদক পাচারের মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন। মাদুরোকে বন্দি করার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যেই বলে আসছেন, এবার কিউবার ‘পতনের সময় এসেছে’।
রাউল কাস্ত্রোকে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে হাজির করা হবে, সে বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সাবেক এই কিউবান নেতা বিমান দুটি গুলি করে নামানোর নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি ‘প্রকাশ্যে স্বীকার ও বড়াই’ করেন।
কিউবায় সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিয়ে রুবিও বলেন, হোয়াইট হাউস আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান চায়। তবে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনীহা নেই। স্প্যানিশ ভাষায় কিউবার জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বার্তায় রুবিও বলেন, বর্তমান ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে কিউবান-আমেরিকানদের মতো স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন একটি নতুন পথ তৈরি করছে।
মাদুরো সরকারের পতনের আগে ভেনিজুয়েলা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল পেত কিউবা। সেই সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর থেকে দেশটি তীব্র সংকটে রয়েছে। কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে হাভানার কূটনৈতিক আলোচনা চললেও হোয়াইট হাউস চাপ কমানোর কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। চলতি মাসেই কিউবার জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও আর্থিক খাতের কর্মকর্তাদের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে মার্কিন নজরদারি বিমানের সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ানো হয়েছে।























