০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

সামরিক অভিযান ঠেকাতেই হরমুজে নিয়ন্ত্রণ চায় ইরান: মোহসেন রেজায়ী

  • আপডেট সময়: ০১:৩৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • 1

সংগৃহীত ছবি


ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) মংবওয়ালু শহরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে।

স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা চিকিৎসাকেন্দ্রের একটি তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দিলে সেখানে থাকা ১৮ জন সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী পালিয়ে গেছেন। এখন পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় হাসপাতাল পরিচালক ডা. রিচার্ড লোকুদি। খবর সিএনএনের

ডা. রিচার্ড লোকুদি জানান, শুক্রবার রাতে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ চিকিৎসাকেন্দ্রে ঢুকে ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ পরিচালিত তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেখানে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন ইবোলা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

হামলায় কেউ আহত না হলেও আতঙ্কে রোগীরা ছুটোছুটি শুরু করে এবং ১৮ জন সন্দেহভাজন রোগী পালিয়ে যান।

এটি এক সপ্তাহের মধ্যে এই ধরনের দ্বিতীয় হামলা। এর আগেও রোয়ামপারা শহরের একটি ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে এক ব্যক্তির মৃত্যু ইবোলায় হয়েছে সন্দেহে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ইবোলায় মৃত ব্যক্তির দেহ অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় কর্তৃপক্ষ বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে দাফনের ব্যবস্থা করছে। তবে এ নিয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।

গত শনিবার রোয়ামপারায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইবোলা আক্রান্তদের গণদাফন সম্পন্ন হয়। রেড ক্রসের টিম লিডার ডেভিড বাসিমা জানান, স্থানীয় যুবকদের বাধা ও প্রতিরোধের মুখে তাঁদের কাজ করতে হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সাদা সুরক্ষা পোশাক পরা স্বাস্থ্যকর্মীরা সিল করা কফিন মাটিতে নামিয়ে দাফন সম্পন্ন করেন, আর দূর থেকে স্বজনদের কান্না করতে দেখা যায়।

ইবোলার বিস্তার ঠেকাতে উত্তর-পূর্ব কঙ্গোতে ৫০ জনের বেশি মানুষের জমায়েত ও রাতভর শোকসভা নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ডিআরসিতে এই প্রাদুর্ভাব এখন ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি’ তৈরি করেছে, যদিও বৈশ্বিক সংক্রমণের ঝুঁকি এখনো কম।

ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানান, এখন পর্যন্ত ৮২টি নিশ্চিত সংক্রমণ ও সাতজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৭৫০টি সন্দেহভাজন ইবোলা সংক্রমণ ও ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ১৭৭টি সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার ছড়িয়ে পড়া বিরল ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনের ইবোলা ভাইরাসের কোনো কার্যকর টিকা এখনো নেই। আফ্রিকা সিডিসি বলছে, এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

সামরিক অভিযান ঠেকাতেই হরমুজে নিয়ন্ত্রণ চায় ইরান: মোহসেন রেজায়ী

সামরিক অভিযান ঠেকাতেই হরমুজে নিয়ন্ত্রণ চায় ইরান: মোহসেন রেজায়ী

আপডেট সময়: ০১:৩৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

সংগৃহীত ছবি


ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) মংবওয়ালু শহরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে।

স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা চিকিৎসাকেন্দ্রের একটি তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দিলে সেখানে থাকা ১৮ জন সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী পালিয়ে গেছেন। এখন পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় হাসপাতাল পরিচালক ডা. রিচার্ড লোকুদি। খবর সিএনএনের

ডা. রিচার্ড লোকুদি জানান, শুক্রবার রাতে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ চিকিৎসাকেন্দ্রে ঢুকে ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ পরিচালিত তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেখানে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন ইবোলা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

হামলায় কেউ আহত না হলেও আতঙ্কে রোগীরা ছুটোছুটি শুরু করে এবং ১৮ জন সন্দেহভাজন রোগী পালিয়ে যান।

এটি এক সপ্তাহের মধ্যে এই ধরনের দ্বিতীয় হামলা। এর আগেও রোয়ামপারা শহরের একটি ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে এক ব্যক্তির মৃত্যু ইবোলায় হয়েছে সন্দেহে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ইবোলায় মৃত ব্যক্তির দেহ অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় কর্তৃপক্ষ বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে দাফনের ব্যবস্থা করছে। তবে এ নিয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।

গত শনিবার রোয়ামপারায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইবোলা আক্রান্তদের গণদাফন সম্পন্ন হয়। রেড ক্রসের টিম লিডার ডেভিড বাসিমা জানান, স্থানীয় যুবকদের বাধা ও প্রতিরোধের মুখে তাঁদের কাজ করতে হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সাদা সুরক্ষা পোশাক পরা স্বাস্থ্যকর্মীরা সিল করা কফিন মাটিতে নামিয়ে দাফন সম্পন্ন করেন, আর দূর থেকে স্বজনদের কান্না করতে দেখা যায়।

ইবোলার বিস্তার ঠেকাতে উত্তর-পূর্ব কঙ্গোতে ৫০ জনের বেশি মানুষের জমায়েত ও রাতভর শোকসভা নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ডিআরসিতে এই প্রাদুর্ভাব এখন ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি’ তৈরি করেছে, যদিও বৈশ্বিক সংক্রমণের ঝুঁকি এখনো কম।

ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানান, এখন পর্যন্ত ৮২টি নিশ্চিত সংক্রমণ ও সাতজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৭৫০টি সন্দেহভাজন ইবোলা সংক্রমণ ও ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ১৭৭টি সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার ছড়িয়ে পড়া বিরল ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনের ইবোলা ভাইরাসের কোনো কার্যকর টিকা এখনো নেই। আফ্রিকা সিডিসি বলছে, এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।