১১:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

পানির দামেও চামড়ার ক্রেতা সংকট, পড়ে আছে রাস্তা-নদীর পাশে

  • আপডেট সময়: ০৮:১১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
  • 6

সংগৃহীত ছবি


কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। নামমাত্র দামে চামড়া কেনার অভিযোগ করেছেন বিক্রেতারা।

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কারণেই দামের এমন দরপতন। প্রতি পিস চামড়ায় যে দাম মিলছে, তাতে খরচই উঠছে না তাদের। পানির দরেও চামড়ার ক্রেতা না থাকায় কোথাও রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে আবার কোথাও পুকুর বা নদীর পাশে ফেলে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

রাজধানীর পোস্তায় বড় গরুর চামড়া বিক্রি করতে আসা কয়েকজন গণমাধ্যমকে জানান, একটি ভালো মানের বড় চামড়ার দাম সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা বলা হচ্ছে। কোথাও সামান্য কাটা বা ছিদ্র থাকলে দাম নেমে যাচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকায়। এক ধরনের সিন্ডিকেট করে ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরায় কোরবানি দেওয়া পশুর চামড়া বিক্রি না হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

কোনোভাবেই বিক্রি করতে না পেরে লোকসান আর দুর্গন্ধের হাত থেকে বাঁচতে জেলার বিভিন্ন স্থানে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার খবর পাওয়া গেছে।


আরো পড়ুন

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে দেখতে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ভিড়

https://www.kalerkantho.com/online/national/2026/05/29/1690782


সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্নান কবীর জানান, চামড়া একটি জাতীয় সম্পদ। এভাবে চামড়া অবিক্রীত থেকে নষ্ট হওয়া বা মাটিতে পুঁতে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক। চামড়া সংরক্ষণের জন্য স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত লবণের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দ্রুত ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে আড়তদারদের সমন্বয় করা জরুরি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কোরবানির চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

বাড়ি বাড়ি ঘুরে চামড়া কিনে এখন ক্রেতার অপেক্ষায় নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে চামড়ার স্তূপের সামনে বসে থেকে হতাশ হয়ে সময় পার করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার পাশে শতাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী শত শত কাঁচা চামড়া নিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে।


আরো পড়ুন

মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

https://www.kalerkantho.com/online/country-news/2026/05/29/1690779


সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে এবার ব্যাপক ধস নেমেছে। কোরবানির পর দুপুর থেকেই উপজেলার সদরসহ বিভিন্ন গ্রামে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ শুরু করলেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল খুবই কম। কোথাও কোথাও চামড়া কিনতে কোনো ব্যবসায়ীই যাননি। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে চামড়া উপজেলা সদরে নিয়ে আসেন। কিন্তু সেখানেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে কেউ কেউ চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন।


আরো পড়ুন

ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলায় সাদা দলের প্রতিবাদ, বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি

https://www.kalerkantho.com/online/campus-online/2026/05/29/1690776


চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা শত শত গরুর চামড়া সংগ্রহ করছিলেন। সবারই আশা ছিল, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম উঠবে। কিন্তু সেই আশা শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায়। কেউ চামড়া বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে চলে যান। কেউ নামমাত্র দামে ছেড়ে দেন। কেউ আবার জোর করে আড়তে চামড়া ঢুকিয়ে দিয়ে ফিরে আসেন। চট্টগ্রামের চামড়ার বাজারে এবারও যেন ফিরে এলো পুরনো সংকট।

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

বিয়ের জন্য উপযুক্ত কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না বাঁধন

পানির দামেও চামড়ার ক্রেতা সংকট, পড়ে আছে রাস্তা-নদীর পাশে

আপডেট সময়: ০৮:১১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

সংগৃহীত ছবি


কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। নামমাত্র দামে চামড়া কেনার অভিযোগ করেছেন বিক্রেতারা।

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কারণেই দামের এমন দরপতন। প্রতি পিস চামড়ায় যে দাম মিলছে, তাতে খরচই উঠছে না তাদের। পানির দরেও চামড়ার ক্রেতা না থাকায় কোথাও রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে আবার কোথাও পুকুর বা নদীর পাশে ফেলে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

রাজধানীর পোস্তায় বড় গরুর চামড়া বিক্রি করতে আসা কয়েকজন গণমাধ্যমকে জানান, একটি ভালো মানের বড় চামড়ার দাম সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা বলা হচ্ছে। কোথাও সামান্য কাটা বা ছিদ্র থাকলে দাম নেমে যাচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকায়। এক ধরনের সিন্ডিকেট করে ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরায় কোরবানি দেওয়া পশুর চামড়া বিক্রি না হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

কোনোভাবেই বিক্রি করতে না পেরে লোকসান আর দুর্গন্ধের হাত থেকে বাঁচতে জেলার বিভিন্ন স্থানে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার খবর পাওয়া গেছে।


আরো পড়ুন

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে দেখতে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ভিড়

https://www.kalerkantho.com/online/national/2026/05/29/1690782


সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্নান কবীর জানান, চামড়া একটি জাতীয় সম্পদ। এভাবে চামড়া অবিক্রীত থেকে নষ্ট হওয়া বা মাটিতে পুঁতে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক। চামড়া সংরক্ষণের জন্য স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত লবণের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দ্রুত ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে আড়তদারদের সমন্বয় করা জরুরি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কোরবানির চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

বাড়ি বাড়ি ঘুরে চামড়া কিনে এখন ক্রেতার অপেক্ষায় নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে চামড়ার স্তূপের সামনে বসে থেকে হতাশ হয়ে সময় পার করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার পাশে শতাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী শত শত কাঁচা চামড়া নিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে।


আরো পড়ুন

মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

https://www.kalerkantho.com/online/country-news/2026/05/29/1690779


সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে এবার ব্যাপক ধস নেমেছে। কোরবানির পর দুপুর থেকেই উপজেলার সদরসহ বিভিন্ন গ্রামে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ শুরু করলেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল খুবই কম। কোথাও কোথাও চামড়া কিনতে কোনো ব্যবসায়ীই যাননি। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে চামড়া উপজেলা সদরে নিয়ে আসেন। কিন্তু সেখানেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে কেউ কেউ চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন।


আরো পড়ুন

ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলায় সাদা দলের প্রতিবাদ, বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি

https://www.kalerkantho.com/online/campus-online/2026/05/29/1690776


চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা শত শত গরুর চামড়া সংগ্রহ করছিলেন। সবারই আশা ছিল, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম উঠবে। কিন্তু সেই আশা শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায়। কেউ চামড়া বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে চলে যান। কেউ নামমাত্র দামে ছেড়ে দেন। কেউ আবার জোর করে আড়তে চামড়া ঢুকিয়ে দিয়ে ফিরে আসেন। চট্টগ্রামের চামড়ার বাজারে এবারও যেন ফিরে এলো পুরনো সংকট।